Advertisement

সিলেট ৩, কে হবেন নৌকার মাঝি?



মাহমুদ মুর্শেদ,ঢাকা।

সিলেট ৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।আগামী ১৪ জুলাই এই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তাফসিল ঘোষণার পর থেকেই এই আসনকে কেন্দে করে শুরু হয়ে গেছে উপনির্বাচনের ডামাডোল। 

এদিকে।আগামি সাপ্তাহ থেকে আওয়ামী লীগ তার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিক্রি শুরু হলেও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি সহ তার শরীক দল।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোড় তদবির করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীরা।বেশ কিছু দিন ধরে আওয়ামী লীগের এসব নেতারা তাদের সমর্থকদের নিয়ে সিলেট ৩ আসনে সরব উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।

জানা গেছে খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হবে। যেখানে এই আসনের বিষয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যয়ের একটি সূত্র।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন যারাঃ 

প্রয়াত সংসদ সদস্যের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা স্যার এনামুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব,স্বাস্থ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল,সিলেট জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন,যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা আসম মিসবাহ এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা মোঃ হোসাইন আহমদ।

উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের দেশ বিদেশের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলেও নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসায় সেই তালিকা ক্রমাগত ছোট হচ্ছে।কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি বিশ্বস্থ সুত্র থেকে জানা গেছে,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,স্বাস্থ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল,সিলেট জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি ও এডভোকেট নিজাম উদ্দিনকে মাঠে অবস্থান করার সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্র।তবে এই আসনের প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী এখন পর্যন্ত আলোচনায় আছেন বলে জানিয়েছেন তার কর্মি সমর্থকেরা।

উপনির্বাচনে একাধিক প্রবাসী প্রার্থী ও আমলাদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সিলেট জেলার রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়ে গেছে।তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও যদি দলের নেতারা মনোনয়ন না পান তাহলে দলের জন্য এত কাজ করে কি লাভ! তারা রাজনীতি করে আসছেন একটা স্বপ্ন নিয়ে, যে ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি হবেন। কিন্তু দল থেকে যদি প্রবাসী এবং আমলাদের মনোনয়ন দেওয়া হয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে আশাহত হবেন। এমন চলতে থাকলে দিন দিন সংগঠন দুর্বল হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।

‘‘এদিকি আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুত্রের ভাষ্যমতে,আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল এই দুইজনের মধ্যে একজনকে নৌকার মাঝি করার পক্ষে।’’

জানা গেছে, গত ১১ মার্চ এই আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।তার মিত্যুতে আসনটি শুন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তিনি নবম ও দশম সংসদে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সিলেট-৩ আসনটি দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত।